|
দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ |
সাজেক প্রতিনিধি, সিএইচটি রিপোর্ট২৪ ।। ‘দেশে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বকারী সরকার চাই’ স্লোগানে কুমিল্লা ও রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্হানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী দুর্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটির সাজেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর ২০২১) সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কমন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ সংগঠক আর্জেন্ট চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাজেক থানা শাখার সভাপতি কালো বরণ চাকমা।
বক্তারা বলেন, গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজা মন্ডপে কথিত কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে কুমিল্লার কয়েকটি স্থানে পূজামন্ডপ, মন্দিরসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এর পরপরই চাঁদপুর, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবানের লামাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু সম্প্রদাযের মন্দির, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।
বক্তারা আরো বলেন, সরকার ও প্রশাসনের উচিত ছিল কুমিল্লার ঘটনার পরপরই দেশের অন্যান্য স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা। কিন্তু তা করা হয়নি। উপরন্তু ঘটনার সময় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই হামলার দায় অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্র তুলে
ধরে বলেন, সমতলে যা ঘটেছে তার চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো বেশি
ভয়াবহ। এখানে যুগ যুগ ধরে সেনাশাসন জারি রেখে অসংখ্য সাম্প্রদায়িক হামলা ও গণহত্যা
সংঘটিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনারই বিচার করা হয়নি।
বক্তারা বলেন, পাহাড় ও সমতলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর উপর যত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে তার কোনটিরই সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া বার বার এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। সরকার এসব হামলাকারী দুর্বৃত্তদের রক্ষা করার কারণে তারা হামলা করতে দিন দিন উৎসাহিত হযে উঠছে।
বক্তারা পাহাড় ও সমতলে জাতি ও জনগণের ওপর হামলা মোকাবেলায় দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ লড়াই গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা পাহাড় ও সমতলের সংখ্যালঘু জাতি ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ও হামলায় জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।